Umbrella Distribution Among School Students

শিক্ষার মূল্য ওই ছোটো ছোটো বাচ্চা রা বোঝে তাই রোদ জল ঝড়ে তারা অপেক্ষা করেনি করেছে তারা উপেক্ষা আর তাদের সেই সব বাধা বিপত্তিকে উপেক্ষা করার সাহস দেখে অভিভূত আমার কিছু বন্ধুর মন হয়েছে উদ্বেলিত তাই তারা সবাই মিলে একাত্ম হয়ে তাদের হাতে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তুলে দিয়েছে এমন একটা অস্ত্র যা তাদের রোদ-বৃষ্টি সবেতেই সমান ভাবে উপকৃত করবে।

উদ্যোগটা কারোর একার নয় উদ্যোগটা এক হয়ে যাওয়া অনেক জনের; উদ্যোগটা Voice Of Humanity Gopiballavpur এর।

প্রথম স্থান – ছোটো তেলান্ত গ্রাম ও পার্শ্বস্থ কিছু পাড়া।

দ্বিতীয় স্থান– শালগাড়িয়া গ্রামে।

ছোটো তেলান্ত গ্রাম ও পার্শ্বস্থ কিছু পাড়া।

স্থান-ছোটো তেলান্ত , তারিখ-২৪/৬/২০১৮

গ্রামটার নাম ছোটো তেলান্ত। এই গ্রামের সবাই আদিবাসী সম্প্রদায় এর মানুষ। সবুজ ঘেরা এই গ্রাম এখনও আধুনিকতা এর ছোঁয়া থেকে বহুদূরে।তবে কারেন্ট আছে কুয়ো আছে, টিউবওয়েল ও আছে।এখানে সবাই কর্মঠ প্রকৃতির এদের বাড়ির পুরুষেরা মূলত চাষাবাদ নির্ভর তাদের এই কাজে তাদের স্ত্রীরাও সাহায্য করে এছাড়াও এখানকার মায়েরা দিনের বেলা বাচ্চাদের নিয়ে শালপাতা কুড়োতে জংগলে যায়।গরমের ছুটি সরকারের তরফ থেকে বাড়িয়ে দেওয়ায় স্কুল বন্ধ তাই বাচ্চারা এইসময় মায়েদের সাথে পাতা কুড়োতে যায় তবে স্কুল খোলা থাকলে সবাই স্কুল যায় এবং স্কুল থেকে এসে বিভিন্ন কাজে বাড়ির লোকের সাহায্য করে।
শিক্ষার মূল্য এরা বোঝে তাই অনেকের বাবা মা নিরক্ষর হওয়া সত্তেও তাদের সন্তানদের প্রকৃত শিক্ষা লাভের কোনো ত্রুটি এরা রাখেনি এই সম্প্রদায়ের মধ্যে ছেলে -মেয়ে এর বিভেদ করার মানসিকতা তেমন নেই।ছাতা দিতে গিয়ে আমরা যতটা মিশেছি এটাই উপলব্ধি আমাদের।
গ্রীষ্ম এখনো তার দাপট কমায়নি বর্ষা কড়া নাড়ছে তার আগমনের তাই ছাতা উপহারের এর থেকে হয়তো ভালো সময় আর হয়না।তাই Voice Of Humanity এর সব সদস্যের মিলিত প্রয়াসে ছোটো তেলান্ত গ্রামে বাচ্চাদের হাতে ছাতা তুলে দেওয়ার প্রয়াস সাধুবাদের দাবী রাখে

Media Coverage by Songbad Protidin
Capture - Umbrella Distribution Among School Students
Songbad Protidin News Paper, Date: 26-Jun-2018
শালগাড়িয়া গ্রাম

স্থান-শালগাড়িয়া
তারিখ-২৫/৬/২০১৮

ছোটো তেলান্ত গ্রামে বাচ্চাদের ছাতা উপহার দেওয়ার পর আমাদের দল Voice Of Humanity Gopiballavpur আরেক ছোটো গ্রাম শালগাড়িয়া এর একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাচ্চা দের ছাতা উপহারর দিতে উপস্থিত হলো।এই গ্রামটাও আলাদা নয় আগের গ্রামটা থেকে সবুজে ঘেরা একটা স্নিগ্ধ গ্রাম তবে আগের গ্রাম থেকে এই গ্রামটা যেন একটু বেশি বিস্তৃত। এখানে যে স্কুল তার দুজন শিক্ষক আমাদের দলের পূর্বপরিচিত তাই স্যারেরা আগে থেকে গ্রামে গ্রামে গিয়ে স্কুল বন্ধ থাকা সত্তেও নিজেদের উদ্যোগে স্কুল খুলিয়ে বাচ্চাদের জড়ো করে আমাদের অনেক সহযোগিতা করেছেন।
বাচ্চারা সবাই ট্রাইবাল তবে এদের মধ্যেও শিক্ষার জন্য জেদটা অনুভূত করলাম আমরা।তবে এখানে একটা জিনিস খুব বেশি করে চোখে পড়লো তা হলো সচেতনতার অভাব গ্রামবাসী রা এখানে বিভিন্ন রোগ ও তার প্রতিকার সম্বন্ধে ততটা সচেতন নয়।সরকারের তরফ থেকে দেওয়া জুতো আমরা দেখলাম কেউ পরে আসেনি বেশিরভাগ খালি পায়ে এসছে তারা।কারণ জিজ্ঞেস করায় তারা বললো যে জুতো গুলো বাইরে ঘুরতে গেলে তারা পরে বলে গুছিয়ে রেখেছে।আকাশে মেঘ কালো করে এসেছিলো আমাদের কাছে সময়ও ছিলো অল্প তা সত্তেও আমাদের দলের সবাই তাদের যতটা সম্ভব সচেতন করলাম জুতো পরে আসার জন্য।
সব শেষে একটা জিনিস দেখলাম এই বাচ্চা দের মধ্যে যা হলো মূল্যবোধ ও বিবেক ওরা যখন ছাতা পেয়ে গেছে সবাই আমরা ওদের সবাইকে একসাথে বসিয়ে একটা ছবি তুললাম ছবি তোলার পর যখন ওরা বেরিয়ে যাচ্ছে তখন দেখি একে একে বাচ্চা গুলো আমদের সবাইকে ছাতা উপহারের কৃতজ্ঞতা স্বরূপ প্রণাম করতে উদ্যত হচ্ছে আমরা হতচকিত হয়েও পরে সামলে নিয়ে ওদের আটকে ওদের বুকে জড়িয়ে ধরি ওদের এই ভালোবাসা আমাদের অভিভূত করেছে।ওরা যে মূল্যবোধ নিয়ে বড়ো হচ্ছে আমরা সবাই মিলে যদি ওদের এই সময় পাশে দাঁড়াতে পারি আমরা আমাদের সমাজ গঠনে অনেকাংশে এগিয়ে যাবো।তাই Voice Of Humanity Gopiballavpur ওদের পাশে দাঁড়ানোর যে ব্রত নিয়েছে তাতে পাশে চাই সবাইকে।

দুটোদিনের কিছু মুহূর্ত

Debapratim

দেবপ্রতিম পট্টনায়ক রহড়া রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ সেন্টেনারি কলেজ,রহড়া তৃতীয় বর্ষ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *