গোপীবল্লভপুরে তৃণমূল অফিস ভাঙচুর, অভিযোগ বিজেপির দিকে

পঞ্চায়েত ভোটে রাজ্যের সর্বত্র একচ্ছত্র দাপট থাকলেও জঙ্গলমহলে বিশেষ করে ঝাড়গ্রামে  কড়া টক্করের মুখে পড়েছে রাজ্যের শাসকদল। ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদে তৃণমূল ভাল ফল করলেও, জেলার গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতে বিজেপির জয়জয়কার। বিজেপি ২৪টি গ্রাম পঞ্চায়েতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে এবং ১০টি পঞ্চায়েত ত্রিশঙ্কু হয়েছে।
ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরে ব্লকের সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করে নিয়েছে বিজেপি। এই খবর সামনে আসতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা।  এরই মধ্যে এই এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় ভাঙা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে জোর বিতণ্ডা শুরু হয়েছে। ১৮ তারিখ সকালে দেখা যায় তৃণমূলের কার্যালয়ের তালা ভেঙে  কারা জেনও টেবিল, টিভি, চেয়ার, ফ্যান ভাঙচুর করেছে।   তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরা তাঁদের কার্যালয় ভেঙে দিয়েছে। এমন কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিও জ্বালিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।  যদিও যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছে গেরুয়া শিবির। উলটে বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, তাঁরা যে সব জায়গায় হেরেছেন সেই সব জায়গায় তৃণমূলের হাতে আক্রান্ত হতে হয়েছে বিজেপি কর্মীরা।
এ যেন উলটপূরাণ ঘটছে গপিবল্লভপুরে! মনোনয়ন পর্ব থেকে শুরু করে ভোটের ফল ঘোষণার পর পর্যন্তও রাজ্যজুড়ে সন্ত্রাস অব্যাহত ছিলই, এমনটাই অভিযোগ করে এসেছে বিরোধী শিবির। এবং তাদের অভিযোগের তির ছিল শাসকদলের দিকে। তবে প্রত্যেকক্ষেত্রেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে শাসকদল। এবার যেন ঠিক তার উলটো ঘটনা ঘটল গোপীবল্লভপুরে। যেখানে বিজেপি অস্বীকার করলো তৃণমূলের আনা সব অভিযোগ।
জদিও জঙ্গলমহলে খারাপ ফলের জন্য তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভ ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসছে। ঝাড়গ্রাম জেলায় বিজেপির উত্থানের পিছনে তৃণমূলের কিছু নেতার মানুষের প্রতি ‘খারাপ ব্যবহার’ কেই দায়ী করলেন তৃনমূল  দলের পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি। একই সঙ্গে জানিয়ে দিলেন এই এলাকা উদ্ধার শুধু সময়ের অপেক্ষা। বিজেপির কাছে মুখ থুবড়ে পড়ার পিছনে অন্যতম কারণ হিসেবে স্থানীয় নেতৃত্বকেই দায়ী করছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের তৃণমূল জেলা সভাপতি। এবেলা.ইন-কে তিনি বলেন, ‘‘গ্রাম পঞ্চায়েতে কোথাও কোথাও আমাদের স্থানীয় নেতৃত্বের সাংগঠনিক ত্রুটি, কোথাও নিজেদের অহঙ্কার ও মানুষের প্রতি খারাপ ব্যবহার আমাদের এই ফলাফলের একটা অন্যতম কারণ।’’  সঙ্গে তিনি এও মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘‘পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদে মানুষ কিন্তু ঢেলে ভোট দিয়েছে তৃণমূলকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের উন্নয়নের উপর আস্থা রেখেছেন।’’
গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে ভাল ফল করলেও জেলা পরিষদে বিজেপি মাত্র ৩টি আসন পেয়েছে। বাকি ১৩টি আসন গিয়েছে তৃণমূলের ঝুলিতে।
অজিত মাইতির দাবি যাঁরা ‘ভুল বুঝে’ গেরুয়া শিবিরে নাম লিখিয়ে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন, তাঁদের আবার দলে ফিরিয়ে নেওয়ার পদ্ধতি শুরু হয়ে গেছে। উলটোদিকে  এই প্রক্রিয়া যে শুরু হয়ে গেছে তা স্বীকার করে নিয়েছে বিজেপিও। রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসুর অভিযোগ, তৃণমূল অনেক নির্বাচিত বিজেপি প্রার্থীকে ভয় দেখাতে শুরু করেছে।
অজিত মাইতি আরও জানিয়েছেন তিনি স্থানীয় স্তরে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং তাঁরা আবার ‘ঘরে’ ফিরে আসতে প্রস্তুত যদি দুর্নীতিগ্রস্ত ত্নৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি আরও জানান সেই অনুযায়ী ঝাড়গ্রাম তৃণমূল জেলা কমিটি  ‘দোষী’ নেতাদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে এবং ‘‘যে যে নেতৃত্বের উপর মানুষের দুঃখ যন্ত্রণা রয়েছে।’’ তাঁদের বিরুদ্ধে যে খুব তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা নেওয়া হবে তাও জানিয়ে দিয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের তৃণমূল জেলা সভাপতি অজিত মাইতি ।
  • তথ্য সংগৃহীতঃ এবেলা. ইন (www.ebela.in)

Admin

Gopiballavpur is a village, with a police station, in Gopiballavpur I Block in Jhargram subdivision of Jhargram district of West Bengal, India. The town is on the banks of the Subarnarekha River near the Jharkhand and Orissa borders. An Ecopark has been newly constructed in the town by the bank of the river Subarnarekha to attract people.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *