Santosh Rana received Ananda Puraskar for his book Rajnitir Ek Jibon


দ্য ওবেরয় গ্র্যান্ডের বলরুমে আয়োজিত  শনিবারের   (২৯/০৪/২০১৮) আনন্দসন্ধ্যায়  আনন্দ পুরস্কার পেলেন গপিবল্লভপুরের ধরমপুরে জন্ম  নেওয়া সন্তোষ রাণা। সন্তোষ বাবু এই সম্মানটি   প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি তথা এদিনের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের কাছথেকে গ্রহন করেন। রাজনীতির এক জীবন” গ্রন্থের জন্য তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দিয়ে প্রণববাবু বলেন, ‘‘যে সময়ে উনি রাজনীতিতে এসেছেন তার দু’এক বছর আগে আমি রাজনীতিতে এসেছি। সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর রাজনীতিতে। লক্ষ্য এক হতে পারে কিন্তু আমাদের পথ, মত সম্পূর্ণ আলাদা ছিল।’’  তবে, তার পরেও দু’জনের অভিজ্ঞতার সাযুজ্যের জায়গাটি তুলে ধরতে গিয়ে প্রণববাবু উল্লেখ করেন তাঁদের প্রায় সমকালীন ছাত্রজীবনের। যে জীবনের প্রায় সমতুল প্রতিকূলতা এবং তা অতিক্রম করার প্রচেষ্টাই হয়তো বা তাঁদের পৌঁছে দিয়েছিল রাজনীতি ও সমাজভাবনার দুই পৃথক আস্থায়। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি যখন তাঁর ছেলেবেলায় গামছা পরে নালা সাঁতরে আলপথ পেরিয়ে স্কুলে যাওয়ার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন, যেন বা তারই সংলগ্ন কাহিনী হিসাবে উঠে আসে সন্তোষ বাবুর শৈশবও।  

 

সন্তোষ বাবুর জীবন কাহিনী

১৯৪৩ সালের বন্যার পটভূমিতে পশ্চিম মেদিনীপুরের গোপীবল্লভপুরের ধরমপুরে জন্ম সন্তোষ বাবুর।  চরম অভাব অনটনে বড়ো হয়েও  উচ্চশিক্ষার লড়াই জিতেছিলেন সন্তোষ বাবু। তিনি ষাটের দশকে রাজা বাজার সায়েন্স কলেজ থেকে স্নাতাক শেষ করে  পদার্থ বিজ্ঞানে গবেষণা করার জন্য প্রেসিডেন্সী কলেজ  ভর্তি হন।  কিন্তু যার মন বিপ্লবী যার হৃদয় সদা সমব্যথিত নিপীড়িত, শোষিত লোকেদের জন্য তাকে কীভাবে আটকে রাখতো এই বৈষয়িক কৃতী?
তাই উচ্চশিক্ষাকে নিমেষে সরিয়ে দিয়ে জীবনের ব্রত করেছিলেন মানুষের পাশে দাঁড়ানোটাকে এবং হয়ে উঠেছিলেন  নকশাল আন্দোলনের অন্যতম সক্রিয় সদস্য ও বিপ্লবী পরে যিনি বন্দি অবস্থাতেই ভোটে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন ।

রাজনীতির এক জীবন

সন্তোষ বাবু তার লেখা বই রাজনীতির এক জিবনে  যেমন উল্লেখ পাওয়া যায়   তাঁর প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়তে আসা, তাঁর গবেষণা অসমাপ্ত রেখে নিজের ‘উজ্জ্বল’ ভবিষ্যতের মোহ অগ্রাহ্য করে অতি বাম রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠার কাহিনী  তেমনই  উল্লেখ পাওয়া যায়  তাড় গত শতকের বাংলার গ্রামজীবন এবং মানুষের বহতা সংগ্রামের এক ব্যঞ্জনাঋদ্ধ আলেখ্যও। যার অনুসন্ধানের অন্যতম বিষয় হল ‘বৈপ্লবিক ধ্যানধারণার পটভূমিতে গণতন্ত্রের প্রাসঙ্গিকতা’। গণতন্ত্রকে কীভাবে আরও প্রসারিত করে তোলা যায়, তারও খুব সুন্দর বিবরন রয়েছে এই গ্রন্থে। 

পশ্চিম বাংলার গনতন্ত্রে অবদান

প্রথম ইউনাইটেড ফ্রন্ট সরকার ১৯৬৭ সালে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেছিল এবং ১৯৬৯ সালে সিপিআই (এমএল) একটি নতুন বিপ্লবী পার্টি চালু করার কথা ঘোষণা করে। বিপ্লবের  এই আহ্বান সন্তোষ  রানা  অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের গবেষণা ত্যাগ করে ফিরে এসেছিলেন নিজের বাসভূমি গপিবল্লভপুরে এবং অংসগ্রহন করেন সিপিআই (এমএল) এর তৈরি করা ঐ বিপ্লব পার্টি।
তার নেতৃত্বে, মেদিনীপুর জেলা এবং বিহারের (বর্তমানে ঝাড়খণ্ড) ও উড়িষ্যার অন্তর্গত অঞ্চলগুলির ডেবারা, গোপীবল্লভপুর, নয়াগ্রাম ও লোধসুলি ব্লক ‘স্বাধীনভাবে মুক্তি’ (virtually liberated) ছিল। এক একান্ত সাক্ষাতকারে সন্তোষ রানা বলেন, “৭০-এর দশকে আমরা শুধু যে নয়াগ্রাম, বিনপুর বা লালগড়ের মত বনভূমিতে আমাদের কাজ শুরু করেছিলাম তা নয়, আমরা  কাজ করেছি সুবর্ণরেখা নদীর তীরে অবস্তিত ডেবরা-গোপীবল্লভপুর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে,  যেখানে শ্রেণী দ্বন্দ্ব  ভূমি ও মজুরি প্রশ্নে তীক্ষ্ণ  ছিল। আমরা দরিদ্র কৃষক ও ভূমিহীন  মানুষদের ভূমি সংক্রান্ত বিষয়গুলির উপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার পাশাপাশি অর্থ-ঋণদাতাদের দ্বারা শোষণ বন্দ  করেছিলাম।”
তিনি স্মরণ করেন, ” আমার সময়কালে, প্রায় ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ জন মানুষ, যারা লাঠি চালানোয় দক্ষ  ছিল, তারা ভূমি  আধিকারি  মালিকদের ঘরে ঢুকে  তাদের ঘরে রাখা  অস্ত্রগুলি  কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। জমিদার বা জোটদারদের জন্য এটি একটি বড় আঘাত ছিল ।  তারা আমাদের এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করতে ব্যর্থ হয় এবং আমরা  তাদের থেকে ছিটে-অতিরিক্ত জমি দখল করে  ভূমিহীনদের মধ্যে বিতরণ করে দি। এটা  সহিংসতা ছিল না, এটি মানুষের বিদ্রোহ ছিল।।” 
সন্তোষ রানা মূলত দুবার  গোপীবল্লভপুরের  ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন ছিলেন, তার মধ্যে ১৯৭৭ সালেের ভোটে  জয়লাভ করলে ও ১৯৮২ সালেের ভোটে তিনি হেরে যান।
নকশাল আন্দোলনের অন্যতম সক্রিয় সদস্য ও বিপ্লবী এবং পরে যিনি বন্দি অবস্থাতেই ভোটে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন সেই "সন্তোষ রানা" 'মে' দিবসের প্রাক্কালে আনন্দ পুরস্কারে সন্মানিত হয়ে আমাদের গোপীবল্লভপুর গ্রামের গৌরব অনেকটাই বাড়িয়ে দিলেন। আজ গোপীবল্লভপুরবাসী হিসেব নিজেকে গৌরবিত মনে করছি।

Admin

Gopiballavpur is a village, with a police station, in Gopiballavpur I Block in Jhargram subdivision of Jhargram district of West Bengal, India. The town is on the banks of the Subarnarekha River near the Jharkhand and Orissa borders. An Ecopark has been newly constructed in the town by the bank of the river Subarnarekha to attract people.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *